বিভিন্ন উপজেলার দুর্গম পাহাড় জুড়ে এ ফুল বেশি দেখা যায়, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এই ঝাড়ুফুল দেখতে অনেকটা কাশফুলের ডাঁটার মতো। শীত শুরু হওয়ার পরপরই এসব গাছে ফুল আসে। ডিসেম্বরের মধ্যেই “ঝাড়ুফুল” পরিপূর্ণতা পায়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয় ফুল।আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে অনেকেই বাড়ি, অফিস, দোকান ইত্যাদির মতো জায়গায় ফুলঝাড়ু ব্যবহার করেন। আসলে এটি বাজারে 80- 100 টাকা দামে বিক্রি হলেও তৈরি করতে আসলে খরচ অনেক কম। ফলে বাজারে চাহিদা থাকায় এর ব্যবসা করে ভালো লাভ করা যেতে পারে। পাহাড় থেকে ‘ফুল ঝাড়ু’ কেটে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে আসেন স্হানীয় লোকজন। ফুলঝাড়ুর ২০-২৫টি কাঠি নিয়ে একটি আটি বাঁধা হয়। বন বিভাগের ভাষায় এটির নাম ‘ভ্রুম’। স্থানীয় চাকমা ভাষায় এ ফুলের নাম চড়ন্দরা, ত্রিপুরা ভাষায় চন্দ্রা,আর মারমা ভাষায় ইনহেজা বলা হলেও সারাদেশে ফুলঝাড়ু বা ঝাড়ুফুল নামেই পরিচিত। যদি ফুল ঝাড়ুর ব্যবসা করতে চান, তাহলে মাত্র অল্প টাকা বিনিয়োগ করে এটি শুরু করা যেতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, ফুল ঝাড়ু 3 -4 মাসের বেশি ব্যবহার করা যায় না। কারণ তারপরেই এটি নষ্ট হয়ে যায়। এমতাবস্থায় এর চাহিদা বেশি থাকে এবং বিক্রিও হয় প্রচুর।
কী ভাবে তৈরি করবেন?
ফুলের ঝাড়ু টাইগার গ্রাস থেকে তৈরি হয়। এ ছাড়া লোহার তার, হাতল এবং প্লাস্টিকের বাকেটও প্রয়োজন। একটি ঝাড়ু তৈরি করতে 300 গ্রাম টাইগার গ্রাস নিন, এতে কিছু লাঠি ঢোকান এবং তারপরে লোহার তার দিয়ে ভালো করে বেঁধে নিন। এর পরে, লাঠির নীচের অংশটি কেটে নিন, এটিকে সমান করুন এবং এটিতে একটি হাতল জুড়ে দিন। মনে রাখতে হবে, হাতল খুব বেশি শক্ত করা চলবে না। দেশের বিভিন্ন শহরে মোটামুটি 50 টাকা থেকে 100 টাকা দরে ফুলঝাড়ু বিক্রি হয়। একটি ফুলঝাড়ু তৈরি করতে 25- 40 টাকার বেশি খরচ হওয়া উচিত নয়। এমতাবস্থায়, আপনি যদি 100 টাকা দামে একদিনে 10টি ফুলঝাড়ু বিক্রি করেন, তবে দিনে 1000 টাকা আয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ অবশ্যই নির্ভর করবে আপনার ফুল ঝাড়ু বিক্রির উপর।
