পাংখোয়া জাতি

পাংখোয়া জাতি

সংগৃহিত

পাংখোয়া একটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, যারা বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অংশে বসবাস করে। বাংলাদেশে, তারা মূলত রাঙ্গামাটি জেলার পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করে। ভারতে, তাদের বসবাস মিজোরামে। পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা এবং ঐতিহ্য রয়েছে।  পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর বসতি সাধারণত উঁচু পাহাড়ের উপরে হয়ে থাকে।  তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে, যা ‘পাংখোয়া’ নামে পরিচিত।  পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নৃত্য, গান এবং উৎসব রয়েছে।  তারা সাধারণত প্রকৃতি পূজা করে এবং তাদের কিছু নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। 

রাঙ্গামাটির কর্ণফুলী নদীর পূর্ব পাশে বসন্ত মোনে পাংখোয়া পাড়া একটি পুরনো বসতি।  পাংখোয়া জাতি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি। পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে। বাঘ খোজিং দেবতার পোষা প্রাণি ছিল বলে পাংখোয়াদের চোখে বাঘের স্থান উঁচুতে। খোজিং-এর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য বৈশাখের শুরুতে নৃত্যানুষ্ঠানের রীতি প্রচলিত রয়েছে। পাংখোয়াদের বিশ্বাস, গভীর অরণ্যে খোজিং দেবতার অবস্থান। মূল খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। পাহাড়ে জুমচাষ এবং অরণ্যে শিকার এই দুইয়ের উপর এদের জীবন নির্ভরশীল। পাংখোয়াদের বাঁশ ও বেত শিল্প সর্বজন সমাদৃত। বাঁশ ও বেতের তৈরি এসব সামগ্রীতে তাদের শৈল্পিক নৈপূণ্য ফুটে উঠে।  পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান। পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে। পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ। গোত্রান্তরে বিয়েতে কোন বাধা নেই। পরিণত বয়সে পিতামাতার মতামত অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পাংখোয়াদের মধ্যে বাল্যবিবাহের প্রচলন নেই। এদের সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ ও বিধবা বিবাহের প্রচলন রয়েছে। পাংখোয়াদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে, তবে তা মৌখিক ভাষা। এদের ভাষার কোন লিখিত রূপ নেই। তা সত্ত্বেও ঐ ভাষায় গানের অভাব নেই, বিশেষ করে প্রেমের গান। অলিখিত রূপ নিয়েই এদের লোকসঙ্গীত যথেষ্ট সমৃদ্ধ।  ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। নাচ ও গান তাদের সংস্কৃতিকে পুষ্ট করেছে। বাঁশনৃত্য, পুষ্পনৃত্য এবং আরও কিছু বিশেষ নৃত্যগীতে তারা অভ্যস্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *