পার্বত্য অঞ্চলের পণ্য

পার্বত্য অঞ্চলের পণ্য

সংগৃহিত

বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প: পার্বত্য অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প হলো বাঁশ ও বেতের কাজ। এখানে নানা ধরণের ব্যবহারিক  জিনিসপত্র তৈরি করা হয়, যেমন – ঝুড়ি, চাটাই, টুপি, এবং অন্যান্য ।

 ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও অলঙ্কার: বিভিন্ন উপজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং অলঙ্কার পার্বত্য অঞ্চলে পাওয়া যায়। এই পোশাক ও অলঙ্কারগুলো তাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

বিভিন্ন ধরণের ফল: পার্বত্য অঞ্চলে নানান ধরণের ফল পাওয়া যায়, যেমন – আনারস, কলা, পেঁপে, এবং অন্যান্য স্থানীয় ফল। এই ফলগুলো সাধারণত টাটকা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়। 

মধু: পার্বত্য অঞ্চলের বন থেকে সংগ্রহ করা মধু বেশ বিখ্যাত। এই মধু সাধারণত প্রাকৃতিক এবং খাঁটি হয়ে থাকে।

স্থানীয় কৃষিজাত পণ্য: পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরণের কৃষিজাত পণ্য পাওয়া যায়, যেমন – ভুট্টা, আলু, এবং অন্যান্য সবজি। এই পণ্যগুলো সাধারণত স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়। 

অন্যান্য: এছাড়া, পার্বত্য অঞ্চলে আরও অনেক ধরণের পণ্য পাওয়া যায়, যেমন – হাতির দাঁতের তৈরি জিনিসপত্র, বিভিন্ন ধরণের স্থানীয় মশলা, এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র

বাঁশের পাত্রে পরিবেশিত মুরগির মাংস এবং “বিগল বিচি” (হালকা ভাজা ছোট দানার মতো) এখানকার খাবার। 

কাপ্তাই হ্রদের মাছ বিক্রি করা।

বিভিন্ন ধরনের আচার, চাটনি, এবং স্থানীয় খাবার তৈরি ও বিক্রি করা।

কাজুবাদাম রাঙ্গামাটির একটি উল্লেখযোগ্য পণ্য, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াজাত করে বিপণন করা হচ্ছে। 

জুমের সবজির মধ্যে রয়েছে- পাহাড়ি কচু, ভুট্টা, কুমড়া, তারা, ঠান্ডা আলু, ক্ষিরা, জংলি আলু, তিত বেগুন, হলুদ, আদা, শাক, বাঁশকোড়ল, কচুর লতি, হলুদ ফুল, থানকুনি পাতা, টক পাতা, কাঁকরোল, পটল, কলার মোচা, মাশরুম, মরিচ, শিমুল আলু, পুঁই বিচি ইত্যাদি।

এছাড়া পাওয়া যায় জুমে উৎপাদিত মাল্টা, পেঁপে, কাঁচা তেতুল, আমলকি, পাইন্যা গুলা, লটকন, চুকাই, বরই, আম, জাম, নারিকেল, সুপারি, কাঁঠাল, বেল, কলা, জাম্বুরা, কমলা, লিচু, আনারস, রক্ত ফল সহ নানান ফলমূল। যার স্বাদ সমতলের ফলমূলের চাইতে আলাদা।

পাহাড়ের ঢালে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে ধান, তুলা, তিল, ভুট্টা, যব, আদা, হলুদসহ বিভিন্ন রকম সবজির বীজ রোপণ করে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে জুমের ফসল তোলা শুরু হয়। ধান পাকে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে।

প্রতি শনি ও বুধবার এখানে হাট বসে জমজমাট। এসময়ে দূর-দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য আনা হয় কুইচ্চা, ব্যাঙ, পাহাড়ি শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ও হরেক রকম শুঁটকি।  

পাশাপাশি পাওয়া যায় নাপ্পি, যেটি তরকারির স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। কাঁচা চিংড়ি  রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরির পর গুঁড়ো করা হয়। সেই গুঁড়োর সঙ্গে পানি, লবণ ও নানান উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা হয় নাপ্পি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যায় এবং বিক্রি করে। 

পার্বত্য অঞ্চলের এই পণ্যগুলো স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *