সংগৃহিত
আর্থ্রাইটিস হলো এক ধরনের রোগ, যা অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং এর ফলে ব্যথা, শক্ত হওয়া এবং ফোলাভাব দেখা দেয়। এটি কোনো একক রোগ নয়, বরং শত শত বিভিন্ন ধরনের রোগের একটি সমষ্টি। সবচেয়ে সাধারণ দুটি প্রকার হলো অস্টিওআর্থ্রাইটিস, যা সাধারণত বয়স্কদের এবং তরুণাস্থির ক্ষয়জনিত কারণে হয়, এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, যা একটি অটোইমিউন রোগ। এর লক্ষণগুলো হলো জয়েন্টে ব্যথা ও শক্ত হওয়া, সীমিত নড়াচড়া, এবং ফোলা। চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
আর্থ্রাইটিসের প্রকারভেদ
এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের আর্থ্রাইটিস, যা প্রধানত তরুণাস্থির (অস্থিসন্ধির সুরক্ষাকারী টিস্যু) ক্ষয়ের কারণে ঘটে।
এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলভাবে নিজের জয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করে।
অন্যান্য প্রকার:
এর মধ্যে গাউট (Gout), সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস (Psoriatic Arthritis), এবং অ্যাঙ্কিলোসিস স্পন্ডিলাইটিস (Ankylosing Spondylitis) ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গ
- জয়েন্টে ব্যথা।
- জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে সকালে।
- জয়েন্টে এবং আশেপাশের টিস্যুতে ফোলাভাব।
- জয়েন্ট নাড়াচাড়া করার সীমিত পরিসর।
কারণ
তরুণাস্থির ক্ষয়:
অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো ক্ষেত্রে বয়সের সাথে সাথে তরুণাস্থি ক্ষয় হয়।
অটোইমিউন সমস্যা:
রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করে।
সংক্রমণ বা অন্যান্য রোগ:
কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ বা অন্যান্য রোগের কারণেও আর্থ্রাইটিস হতে পারে।
চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা
ওষুধ:
ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
ফিজিওথেরাপি:
জয়েন্টের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং শক্তি যোগাতে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন:
খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, যা প্রদাহ বাড়াতে পারে।
ব্যায়াম: নিয়মিত হালকা ব্যায়াম জয়েন্টগুলোকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
চিকিৎসক: একজন রিউম্যাটোলজিস্ট ( বাত বিশেষজ্ঞ) সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিতে পারেন।
