সংগৃহিত
লিভার, বা যকৃৎ, হলো শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা পেটের ডানদিকে, পাঁজরের নিচে অবস্থিত। এটি শরীরের বৃহত্তম গ্রন্থি এবং এটি প্রোটিন তৈরি, পুষ্টি উপাদান সংশ্লেষণ, পিত্তরস তৈরি, এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ও বর্জ্য অপসারণের মতো অনেক জরুরি কাজ করে থাকে। লিভারের কোনো সমস্যা হলে যেমন জন্ডিস, পেটে ব্যথা, ক্লান্তি, বা ত্বকে চুলকানি দেখা দিতে পারে।
লিভারের প্রধান কাজসমূহ
বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ: লিভার শরীর থেকে বর্জ্য, বিষাক্ত পদার্থ এবং মাদকদ্রব্য ফিল্টার করে শরীর থেকে বের করে দেয়।
পিত্তরস উৎপাদন:
খাবার হজমে সাহায্য করার জন্য লিভার পিত্তরস তৈরি করে, যা চর্বি ভেঙে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
পুষ্টি উপাদান তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ:
গ্লুকোজের মতো পুষ্টি উপাদান তৈরি করে এবং এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও লিভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রোটিন উৎপাদন:
শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করে।
লিভারের রোগ ও লক্ষণসমূহ
লিভারের রোগের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:
- চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)।
- পেট ফুলে যাওয়া এবং ব্যথা।
- ত্বকে চুলকানি।
- প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হওয়া।
- দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি।
- বমি বমি ভাব বা বমি।
লিভার সুস্থ রাখতে যা করণীয়
- স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করা।
- ভাজা, তৈলাক্ত এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
- নিয়মিত ব্যায়াম করা।
- অ্যালকোহল সেবন কমিয়ে দেওয়া বা সম্পূর্ণ ত্যাগ করা।
লিভার ভালো রাখতে সবুজ শাকসবজি (যেমন পালং শাক), ক্রুসিফেরাস সবজি (যেমন ব্রকলি ও ফুলকপি), চর্বিযুক্ত মাছ, বাদাম, হলুদ, রসুন, বেরি, জলপাই তেল, লেবু এবং গ্রিন টি খাওয়া উপকারী। এছাড়াও, পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি, লাল চাল ও সিরিয়াল এবং নিয়মিত ব্যায়াম লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ লিভারকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত জল পান করা:
শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা এবং টক্সিন অপসারণ করা লিভারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
