সংগৃহিত
চাক হলো বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, যারা প্রধানত বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে বসবাস করে। এদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে এবং এরা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, তবে কিছু খ্রিষ্টধর্মালম্বীও আছেন। এদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এদের নিজস্ব লিখিত বর্ণমালা রয়েছে যা ২০১১ সালে তৈরি করা হয়।
ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারি, কামিছড়া, ক্রোক্ষং, বাকখালি, আলেখ্যং, ক্রোয়াংঝিড়ি এবং ডুছড়ি এলাকায় এদের বসবাস।
ভাষা:
- এদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে, যা ‘চাক ভাষা’ নামে পরিচিত।
- ‘চাক’ শব্দের অর্থ ‘দাঁড়ানো’।
- চাক ভাষা চীনা-তিব্বতি ভাষা পরিবারের অন্তর্গত এবং এর বাক্য গঠন বাংলার মতো, অর্থাৎ কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া।
সংস্কৃতি ও ধর্ম:
- চাকরা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, তবে কিছু খ্রিষ্টধর্মালম্বীও আছেন।
- তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, লোককথা, গান এবং উৎসব রয়েছে।
- ‘জিংখানের’ বা ‘থিংকানাই’ তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা গ্রামরক্ষক দেবতার কাছে বলী উৎসর্গ করে পালিত হয়।
সামাজিক বৈশিষ্ট্য:
- চাকদের মধ্যে ‘আন্দো’ ও ‘ঙারেখ’ নামে দুটি প্রধান গোত্র দেখা যায়, এবং এদের মধ্যে আবার বিভিন্ন উপগোত্রও রয়েছে।
- একই গোত্রের মধ্যে ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ।
- ২০১১ সালে মংমং চাক প্রথম চাকদের জন্য একটি নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- চাক সম্প্রদায়কে অনেকে ভুল করে চাকমা সম্প্রদায়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন, কিন্তু এরা ভিন্ন একটি জনগোষ্ঠী।
- জনসংখ্যার দিক থেকে চাকরা পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে ছোট সম্প্রদায়
