পাহাড়ে হলুদ ব্যবসা একটি ক্রমবর্ধমান এবং লাভজনক খাত

পাহাড়ে হলুদ ব্যবসা একটি ক্রমবর্ধমান এবং লাভজনক খাত

সংগৃহিত

কাঁচা হলুদ সিদ্ধ করতে ড্রামে দেওয়া হচ্ছে আগুন, রোদে মাঠের মধ্যে শুকানোর হয় হলুদ। এসব হলুদ শুকিয়ে শেষে বিশালাকার একটি ফলার মেশিনে দিয়ে হলুদের উপরি অংশ ছাড়ানো হয়। এরপর ফলার মেশিন থেকে হলুদ বের করে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে।পাহাড়ের পতিত টিলাভূমিতে উৎপাদিত হলুদের খ্যাতি দেশজুড়ে। পাহাড়ে কৃষিপণ্যের তালিকায় সবার শীর্ষে ‘হলুদ’ শুকনো হলুদের উচ্ছিষ্ট অংশ কিনে নিয়ে যায় মশার কয়েল উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে।হলুদের বাজার তৈরি করতে সরকারকে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে।’ পাহাড়ি হলুদ চাষে রাসায়নিক সারের ব্যবহার একদমই নেই। তাই পুষ্টিগুণ স্বাদ ও রং অক্ষুণ্ন রাখতে সাহায্য করে। কিছু কিছু পাহাড়ি এলাকায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয় হলুদ। সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ হয় বলে এ অঞ্চলের হলুদ খুবই সুস্বাস্থ্যকর।’ ব্যাংকঋণ, সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাত কারখানাসহ নানা সুবিধা দিলে বছরে হাজার কোটি টাকার হলুদ চাষ করা সম্ভব  পাহাড়ে হলুদ চাষের জন্য ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ঝোপ-জঙ্গল কাটা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের দিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে টিলাগুলোর আগাছা পরিষ্কার করে হলুদ চাষের উপযোগী করতে হয়। টিলা চাষের উপযোগী হওয়ার পর কলা, মরিচ, বেগুন, তিলসহ অন্যান্য ফসলে সঙ্গে হলুদ চাষ করা হয়। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ (এপ্রিল-মার্চ) মাসে হলুদের বীজ রোপণ করতে হয়। অন্যান্য ফসলের চেয়ে হলুদের পরিচর্যা করতে হয় কম। শুধু খেতের আগাছা পরিষ্কার করলেই চলে। পাহাড়ে হলুদের কোনো রোগবালাই নেই বললে চলে। সাত থেকে আট মাসের মধ্যেই হলুদ তোলার উপযোগী হয়। জুম চাষিরা ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস থেকে হলুদ তোলা করা শুরু করেন। হলুদ তোলার পর সেদ্ধ করে ৮ থেকে ১০ দিন রোদে শুকালেই বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়। প্রতি চার মণ হলুদ শুকালে এক মণ থাকে।ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে বাজারে শুকনো হলুদ বিক্রি শুরু হয়। এপ্রিল পর্যন্ত বাজারগুলোতে হলুদ বিক্রি জমজমাট থাকে।পাহাড়ে হলুদ ব্যবসা একটি ক্রমবর্ধমান এবং লাভজনক খাত, যেখানে উন্নত মানের ফরমালিনমুক্ত হলুদ উৎপাদন হয় এবং এর চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে। জুম খেতে সহ-ফসল হিসেবে হলুদ চাষ করা হয়, এবং এই অঞ্চলের মাটি হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পাহাড়ে হলুদ ব্যবসার মূল বিষয়: পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া হলুদ চাষের জন্য খুবই অনুকূল, যার ফলে এখানে উন্নত ও গুণগত মানের হলুদ উৎপন্ন হয়। এই হলুদ ফরমালিনমুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাহাড়ের অর্থনীতিতে হলুদ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করে। জুম খেতে তিল, কলা, আদা ও মরিচসহ অন্যান্য ফসলের সঙ্গে সহ-ফসল হিসেবে হলুদ চাষ করা হয়। 

ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা: : সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে এই হলুদ সারা দেশে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। : আধুনিক পদ্ধতিতে হলুদ চাষ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব। : ব্যাংকঋণ, সংরক্ষণাগার এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মতো সুবিধা পেলে এই ব্যবসার আয় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *