বৈজ্ঞানিক নাম: Acalypha indica
পরিবার: ইউফরবিয়াসি
গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশব্দ: Cupaments indica Rafin.
আঞ্চলিক নাম: মুক্তাঝুরি (বাংলা); ভারতীয় নেটল (ইংরেজি); সালিক কুশোম (ত্রিপুরা)।
বর্ণনা: একটি খাড়া, একবর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ, উচ্চতা ১ মিটার পর্যন্ত; কাণ্ড সরল বা শাখাযুক্ত, কৌণিক ও সূক্ষ্ম।
রোমশ। পাতা একান্তর, ডিম্বাকার থেকে রম্বিক-ডিম্বাকার, ৩-৮ x ২.৫-৬.০ মিমি; অগ্রভাগে অবনমিত, গোড়া গোলাকার থেকে কীলকাকার, কিনারা খাঁজকাটা-করাতাকৃতির, মসৃণ, পাতলা ঝিল্লিময়, ৩.৫ শিরাযুক্ত, বোঁটাযুক্ত এবং ৩-৬ সেমি লম্বা। পুষ্পবিন্যাস কক্ষীয় বা শীর্ষস্থ রেসিম, ফুল উভলিঙ্গ, ক্ষুদ্র। পুংপুষ্প ক্ষুদ্র, মঞ্জরীপত্রবিহীন, বৃতি ৪টি, পাপড়ি অনুপস্থিত, পুংদণ্ড ৮টি, কখনও কখনও অসংখ্য, পুংদণ্ড খাটো, মুক্ত, গর্ভপত্র অনুপস্থিত। স্ত্রীপুষ্প পুষ্পবিন্যাস অক্ষ বরাবর এককভাবে ও শিথিলভাবে ছড়ানো থাকে, মঞ্জরীপত্র বড়, ৬ x ১৪ মিমি পর্যন্ত, অগভীরভাবে দাঁতযুক্ত, মসৃণ, দাঁতগুলো ভোঁতা, ১-পুষ্পবিশিষ্ট, বৃতি ৩-৪টি, ক্ষুদ্র, উপরিপাতিত, গর্ভপত্রগুলো একটি ত্রিকোষী ডিম্বাশয়ে সংযুক্ত, প্রতিটি কোষে ডিম্বাণু একটি, গর্ভদণ্ড সুতোর মতো, ঝালরযুক্ত। ফল একটি ক্যাপসুল, তিনটি ফল ধরে। ফল ধরার সময়: ডিসেম্বর-এপ্রিল। পতিত, আর্দ্র ও ছায়াময় স্থান এবং নদীর তীরে জন্মায়। ক্ষুদ্র, দ্বি-কপাটী, খসখসে গোলাকার। বীজ প্রায় গোলাকার, শ্বেতাবরণ মাংসল। ফুল ও
বাংলাদেশের বাইরে বিস্তার: ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফ্রিকা এবং অন্যান্য উষ্ণতর অঞ্চল জুড়ে।
ফিলিপাইন। বাংলাদেশে বিস্তার: বাংলাদেশে এটি সারাদেশে পাওয়া যায়।
ঔষধি ব্যবহার: এই উদ্ভিদটি নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
Acalypha indica (মুক্তাঝুরি)-এর প্রধান ঔষধি গুণাবলী:শ্বাসতন্ত্রের চিকিৎসায়: এটি কাশি, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি এবং নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় কার্যকরী ।চর্মরোগ ও ক্ষত নিরাময়: পাতার রস বা পেস্ট চর্মরোগ, ঘা, এবং পোকার কামড় বা সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় ।হজম ও কৃমিনাশক: এটি অন্ত্রের কৃমি দূর করতে এবং পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে ।জন্ডিস ও যকৃৎ সুরক্ষা: প্রথাগত চিকিৎসায় এটি জন্ডিস প্রতিকারে ব্যবহৃত হয় ।হোমিওপ্যাথি ব্যবহার: রক্তবমি, শুকনো কাশি, এবং পায়খানার সাথে রক্ত পড়ার চিকিৎসায় এই উদ্ভিদের নির্যাস ব্যবহৃত হয় ।অন্যান্য গুণ: এটি বাতের ব্যথা, টিউমার এবং প্রদাহ কমায় ।
সতর্কতা: এই গাছটি গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ডিহাইড্রোজেনেজের (G6PD) ঘাটতি থাকা ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে । যেকোনো ভেষজ বা হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহারের আগে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া
